ঢাকা , বুধবার, ০৫ অগাস্ট ২০২৬ , ২১ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

কুষ্টিয়া জলাতঙ্ক প্রতিরোধী র‌্যাবিস ভ্যাকসিনের সংকট


আপডেট সময় : ২০২৬-০১-১২ ০০:৪৩:৩৬
কুষ্টিয়া জলাতঙ্ক প্রতিরোধী র‌্যাবিস ভ্যাকসিনের সংকট কুষ্টিয়া জলাতঙ্ক প্রতিরোধী র‌্যাবিস ভ্যাকসিনের সংকট
রফিকুল ইসলাম, কুষ্টিয়া প্রতিনিধি :
কুষ্টিয়া জেলাজুড়ে জলাতঙ্ক প্রতিরোধী র‌্যাবিস ভ্যাকসিনের সংকট দেখা দিয়েছে। 
 
সরকারি হাসপাতাল, উপজেলা স্বাস্থ্যকেন্দ্র, এমনকি ফার্মেসিগুলোতেও এই রোগের ভ্যাকসিন মিলছে না।
 
দীর্ঘদিন ধরে ভ্যাকসিন না পাওয়ায় চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন আক্রান্ত রোগী ও তাদের স্বজনরা। কুকুর, বিড়াল, বানর ও বেজির কামড়ে আক্রান্ত হয়ে প্রতিদিন অসংখ্য রোগী এ হাসপাতালে এলেও প্রয়োজনীয় ভ্যাকসিন না পেয়ে ফিরছেন হতাশ হয়ে।
 
 
 
মায়ের জন্য ভ্যাকসিন নিতে আসা মোহাম্মদ রবিউল ইসলাম বলেন, আমার মাকে ৫-৬ দিন আগে একটি বিড়াল কামড়েছে। এখন পর্যন্ত দুই ডোজ ভ্যাকসিন দেওয়া হয়েছে। তৃতীয় ডোজ শনিবার দেওয়ার কথা ছিল। কিন্তু কুষ্টিয়ার আমিন ফার্মেসি, অন্যান্য বড় বড় ফার্মেসী ও ইনসেপ্টা কোম্পানির ডিপোতেও খোঁজ করে কোথাও ভ্যাকসিন পায়নি। পরের সপ্তাহে পাওয়া যেতে পারে বলে আশ্বাস দেওয়া হয়েছে, কিন্তু পাবো কি না নিশ্চিত না। এখন ডাক্তারের সঙ্গে কথা বলে বিকল্প ব্যবস্থা খুঁজতে হবে।
 
ভ্যাকসিন নিতে আসা আরেক সেবা প্রত্যাশী মোহাম্মদ শাহিন ইকবাল শান্ত বলেন, বিড়ালের কামড়ে আক্রান্ত হয়ে ভ্যাকসিন নিতে এসেছি। কিন্তু কুষ্টিয়ায় কোথাও ভ্যাকসিন নেই। প্রায় এক সপ্তাহ ধরে সংকট চলছে। আজ তিন দিন পর ঝিনাইদহ থেকে এক আত্মীয়ের মাধ্যমে এক হাজার টাকা দিয়ে ভ্যাকসিন আনাতে হচ্ছে। কুষ্টিয়া এত বড় একটি জেলা হওয়া সত্ত্বেও জলাতঙ্কের ভ্যাকসিন না পাওয়া খুবই দুঃখজনক। যাদের কুকুর কামড়েছে, তাদের অবস্থা কতটা ভয়াবহ তা ভাবতেই ভয় লাগে। সময়মতো ভ্যাকসিন না পেলে জীবন ঝুঁকিতে পড়ে।
 
 
 
এ বিষয়ে কুষ্টিয়া শহরের মেরিন ফার্মেসির স্বত্বাধিকারী ক্যাভিয়াল নুর বাপ্পি জানান, আমাদের ফার্মেসিতে প্রতিদিন গড়ে ৪০ থেকে ৪৫টি র‌্যাবিস ভ্যাকসিন বিক্রি হতো। আরও অনেক ফার্মেসি এই ভ্যাকসিন সরবরাহ করত। ইনসেপ্টা ও পপুলার ফার্মাসিউটিক্যাল এই ভ্যাকসিন বাজারে সরবরাহ করে থাকে। ইনসেপ্টা মাঝে-মধ্যে দিলেও পপুলার দীর্ঘদিন ধরেই সাপ্লাই বন্ধ রেখেছে। কখনো দেয়, কখনো দেয় না। এই অনিয়মের কারণে গ্রাহকদের সীমাহীন হয়রানি হচ্ছে। জলাতঙ্কের ভ্যাকসিনের কোনো বিকল্প নেই। প্রায় এক মাসের বেশি সময় ধরে আমরা ভ্যাকসিন পাচ্ছি না।
 
 
 
 
কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালের জলাতঙ্ক বিভাগে কর্মরত কর্মকর্তা মোহাম্মদ রাজু আহমেদ বলেন, সরকারি পর্যায়ে বর্তমানে ভ্যাকসিন সরবরাহ করা সম্ভব হচ্ছে না। বাইরের বাজারেও সহজে পাওয়া যাচ্ছে না। আজ আমাদের এখানে ১২৮ জন রোগী এসেছেন, সবাই বাইরে থেকে ভ্যাকসিন কিনে এনেছেন। কুকুর, বিড়াল, বানর ও বেজির কামড়ে আক্রান্ত রোগীদের জলাতঙ্কের ভ্যাকসিন দিতে হয়। এর মধ্যে বিড়ালের কামড়ে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যাই সবচেয়ে বেশি। গত বছরের ২১ নভেম্বর কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালে র‌্যাবিস ভ্যাকসিন সম্পূর্ণ শেষ হয়ে যায়। আর বেসরকারি ফার্মেসিতেও প্রায় দুই সপ্তাহ ধরে র‌্যাবিস ভ্যাকসিনের তীব্র সংকট চলছে। ফলে রোগীদের ঝিনাইদহ, রাজশাহী ও ঢাকা থেকে আত্মীয়-স্বজনের মাধ্যমে ভ্যাকসিন সংগ্রহ করতে হচ্ছে।
 
এ বিষয়ে কুষ্টিয়া ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) ডা. হোসেন ইমাম জানান, জলাতঙ্ক রোগের জন্য যে র‌্যাবিস ভ্যাকসিনটি আমরা ব্যবহার করি, তা প্রায় ছয় মাস ধরে সরকারি পর্যায়ে সরবরাহ নেই। গত এক মাস ধরে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠেছে। বেসরকারিভাবে যে দু'টি কোম্পানি ভ্যাকসিন সরবরাহ করত, তারাও বর্তমানে দিতে পারছে না। ফলে রোগীরা চরম ভোগান্তিতে পড়ছে।V

নিউজটি আপডেট করেছেন : lifestyledesign847@gmail.com

কমেন্ট বক্স

প্রতিবেদকের তথ্য

এ জাতীয় আরো খবর

সর্বশেষ সংবাদ