ঢাকা , বৃহস্পতিবার, ২২ জানুয়ারী ২০২৬ , ৮ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

​চুনারুঘাট ইসলামিক মিশনে অনিয়মের চিত্র, ধর্ম উপদেষ্টার সামনে বিতর্কিত চিকিৎসক


আপডেট সময় : ২০২৫-১২-১৪ ০০:৩৭:০৫
​চুনারুঘাট ইসলামিক মিশনে অনিয়মের চিত্র, ধর্ম উপদেষ্টার সামনে বিতর্কিত চিকিৎসক ​চুনারুঘাট ইসলামিক মিশনে অনিয়মের চিত্র, ধর্ম উপদেষ্টার সামনে বিতর্কিত চিকিৎসক

চুনারুঘাট (হবিগঞ্জ) প্রতিনিধি ॥

হবিগঞ্জের চুনারুঘাট উপজেলায় অবস্থিত ইসলামিক ফাউন্ডেশনের অধীন ইসলামিক মিশন নরপতি পরিদর্শন করেছেন ধর্ম উপদেষ্টা এএফএম খালেদ হোসেন। শনিবার দুপুরে  পরিদর্শনকালে মিশনের সার্বিক কার্যক্রম, সেবার মান ও ব্যবস্থাপনায় একাধিক অনিয়ম ও অব্যবস্থাপনার চিত্র উঠে আসে। পরিদর্শনের সময় মিশনে কর্মরত চিকিৎসক ডা. শামছিয়া তাসনিম দ্বীপি ধর্ম উপদেষ্টার কাছে অভিযোগ করেন, মিশনের আশপাশ এলাকার লোকজন খারাপ প্রকৃতির এবং চুরির সঙ্গে জড়িত। তিনি দাবি করেন, মিশনের ভেতরে থাকা নারিকেল পুকুরের মাছ চুরি হচ্ছে এবং পার্শ্ববর্তী বাড়িগুলো থেকে নিয়মিত ময়লা–আবর্জনা ফেলে পরিবেশ দূষণ করা হচ্ছে।

তবে চিকিৎসকের এসব বক্তব্যকে ভিত্তিহীন, অতিরঞ্জিত ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত দাবি করে মিশনের আশপাশ এলাকার বাসিন্দারা ধর্ম উপদেষ্টার কাছে মৌখিক অভিযোগ জানান। তারা বলেন, পুরো এলাকার মানুষকে ঢালাওভাবে ‘খারাপ’ ও ‘চোর’ আখ্যা দেওয়া মানহানিকর ও অনৈতিক। এ বক্তব্যে তাৎক্ষণিকভাবে এলাকাবাসীর মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও উত্তেজনার সৃষ্টি হয়। পরিদর্শনকালে ধর্ম উপদেষ্টা মিশনের ভেতরে একাধিক অনিয়ম ও অব্যবস্থাপনা প্রত্যক্ষ করেন। এর মধ্যে রয়েছে-  নিম্নমানের ওষুধ সরবরাহ, সেলাই মেশিনের স্ট্যান্ড থাকলেও মেশিনের অনুপস্থিতি, মিশনের অভ্যন্তরীণ পরিবেশের অস্বাস্থ্যকর অবস্থা, এবং সেবাপ্রার্থীদের সঙ্গে চিকিৎসকের অসৌজন্যমূলক আচরণের অভিযোগ। এসব অনিয়মের প্রেক্ষিতে ধর্ম উপদেষ্টা তাৎক্ষণিকভাবে চুনারুঘাট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোহাম্মদ জিয়াউর রহমানকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেন।

এদিকে পরিদর্শন চলাকালে উপজেলা প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পক্ষ থেকে প্রত্যাশিত সহযোগিতা পাওয়া যায়নি বলে অভিযোগ করেন ডা. শামছিয়া তাসনিম দ্বীপি। তবে এ বিষয়ে চুনারুঘাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শফিকুল ইসলাম বলেন, চুরির বিষয়ে এখন পর্যন্ত থানায় কোনো লিখিত বা মৌখিক অভিযোগ পাওয়া যায়নি।
এ প্রসঙ্গে ডা. শামছিয়া তাসনিম দ্বীপি বলেন, তার কোনো বরাদ্দ নেই। চুরির সঙ্গে কারা জড়িত, তার তালিকা থাকলেও তিনি তা এখন প্রকাশ করবেন না। ঢালাওভাবে এলাকার মানুষকে চোর ও খারাপ বলার কারণ জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘মেজাজ খারাপ ছিল।’ ইউএনওকে অনিয়মের বিষয়ে ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছে- এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘আমি আগারগাঁও হেড অফিসে চাকরি করেছি, ইউএনও আমার কী করবে? চিকিৎসকের এমন বক্তব্য ও আচরণে মিশনে চিকিৎসা নিতে আসা একাধিক সেবাগ্রহীতাও ক্ষোভ প্রকাশ করেন। তারা জানান, চিকিৎসকের আচরণ রূঢ় ও অসৌজন্যমূলক হওয়ায় সেবা নিতে এসে তারা বিব্রত ও অপমানিত বোধ করেন। ঘটনাস্থলে উপস্থিত উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ জিয়াউর রহমান পুরো পরিস্থিতিতে বিব্রত বোধ করেন এবং বিষয়টি গুরুত্বসহকারে খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে আশ্বস্ত করেন। পরিদর্শনকালে সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান সৈয়দ লিয়াকত হাসান, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ জিয়াউর রহমান, চুনারুঘাট থানার ওসি মো. শফিকুল ইসলামসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। পরিদর্শন শেষে ধর্ম উপদেষ্টা চুনারুঘাটের ঐতিহ্যবাহী মুড়ারবন মাজার জিয়ারত করেন।
এদিকে ডা. শামছিয়া তাসনিম দ্বীপির বক্তব্য ও আচরণ ঘিরে এলাকায় ব্যাপক আলোচনা ও প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয় ইউপি সদস্য ইমান আলী বলেন, ইসলামিক মিশনে কর্মরত ডাক্তারের আচরণ অত্যন্ত ভয়বহ ও অনাকাঙ্ক্ষিত। তিনি জানান, অনেক সেবাগ্রহীতা চিকিৎসা নিতে গিয়ে চিকিৎসকের অসৌজন্যমূলক ও অশোভন আচরণের বিষয়ে তার কাছে অভিযোগ করেছেন। তিনি বিষয়টি নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান।


ছবি: ইসলামিক মিশনে কর্মরত চিকিৎসক ডা. শামছিয়া তাসনিম দ্বীপি।

নিউজটি আপডেট করেছেন : [email protected]

কমেন্ট বক্স

প্রতিবেদকের তথ্য

এ জাতীয় আরো খবর

সর্বশেষ সংবাদ