ঢাকা , রবিবার, ১৪ ডিসেম্বর ২০২৫ , ৩০ অগ্রহায়ণ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

নাইক্ষ্যংছড়িতে দাখিল মাদ্রাসার ভাঃ সুপার জাহাঙ্গীর ও গভর্নিং বডির সভাপতির বিরুদ্ধে সরেজমিনে তদন্ত কার্যক্রম সম্পন্ন


আপডেট সময় : ২০২৫-১১-২৬ ২০:০৬:১৭
নাইক্ষ্যংছড়িতে দাখিল মাদ্রাসার ভাঃ সুপার জাহাঙ্গীর ও গভর্নিং বডির সভাপতির বিরুদ্ধে সরেজমিনে তদন্ত কার্যক্রম সম্পন্ন নাইক্ষ্যংছড়িতে দাখিল মাদ্রাসার ভাঃ সুপার জাহাঙ্গীর ও গভর্নিং বডির সভাপতির বিরুদ্ধে সরেজমিনে তদন্ত কার্যক্রম সম্পন্ন
হেলাল উদ্দীন (মিঞাজী) নাইক্ষ‍্যংছড়ি (বান্দরবান) প্রতিনিধিঃ

বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়ির চাকঢালা মহিউচ্ছুন্নাহ দাখিল মাদ্রাসার সভাপতি ও ভারপ্রাপ্ত সুপারের বিরুদ্ধে অনিয়ম দুর্নীতির অভিযোগের বিষয়ে তদন্ত কার্যক্রম সম্পন্ন হয়েছে। 

২৬ নভেম্বর (বুধবার) তদন্ত কর্মকর্তা, নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভুমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ইসমত জাহান ইতু মাদ্রাসায় সরেজমিনে গিয়ে অভিযুক্ত ভারপ্রাপ্ত সুপার জাহাঙ্গীর আলম  শতাধিক অভিভাবক ও অন্যান্য শিক্ষকদের উপস্থিতিতে তদন্ত কার্যক্রম সম্পন্ন করেন। মাদ্রাসার অভিভাবকদের লিখিত অভিযোগের প্রেক্ষিতে  দপ্তরের ১৩ নভেম্বর জারিকৃত ৩১.৪২.০৩৫১১৫১.০২.০০৯.২৫(৪৩০) স্মারকের নোটিশ সুত্রে  ২৬/১১/২৫ বুধবার অভিযুক্ত সভাপতি ও সুপারকে প্রয়োজনিয় কাগজ পত্র সহ শুনানিতে অংশ  নিতে নির্দেশ দেন উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভুমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট  ইসমত জাহান ইতু। 

অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, মাদ্রাসা সুপারের বিরুদ্ধে  অভিযোগের মধ্যে রয়েছে১৯-০৬-২০৩,০৫-০৮-২৩ তারিখে  অগ্রনীব্যাংক ককসবাজার শাখা হিসাব নং ০২০০০০৯৪১২৮৭২) হতে ৪লক্ষ উত্তলন করে টাকা শিক্ষক স্টাইপেনের টাকা আত্মসাৎ,ফুল বাগানের নামে ভুয়া ভাউচার করে টাকা আত্মসাৎ, ভবন মেরামতের নামে ৫ লক্ষ টাকা আত্মসাৎ, ভর্তি ফি টাকা আত্মসাৎ, মাদ্রাসার নামিয় জমির লাগিয়তের টাকার ভাগ বাটোয়ারা,শিক্ষকদের মামলা মোকাবেলার নামে টাকা অপচয়, টেন্ডার ছাড়াই প্রায় কোটি টাকার মাদ্রাসার ভবন নির্মাণ, নিয়োগ বাণিজ্য, অবৈধভাবে ব্যাংক থেকে টাকা উত্তোলন, ভুয়া ছাত্র/ছাত্রী দেখিয়ে উপবৃত্তির টাকা আত্মসাৎ, ব্যাংক হিসাব পরিচালনায় অনিয়ম, ভুয়া ছাত্র/ছাত্রী দেখিয়ে সরকারী বই তছরূপ, ভুয়া বিল ভাউচার দাখিল, শিক্ষকদের সাথে অসাদাচরণ, মাদ্রাসার প্রকৃত জমির হিসাব দাখিলে অনিয়ম, নিয়মিত ক্লাসে উপস্থিত না থাকা,কোচিং বানিজ্য, বায়োমেট্রিক হাজিরা ব্যবস্থার জন্য মেশিন ক্রয় করে হাজিরা না নিয়ে ফেলে রাখা।নিয়মিত কমিটি গঠন  না করা,ভারপ্রাপ্ত সুপারের হাতে লেখা একটি নোটিশের প্রায় বানান ভুল যা ইতিমধ্যে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ব্যপক ট্রল হয়েছে ,মাদ্রাসার এফডিআর সঞ্চয়পত্র তছরুপ সহ নানা অনিয়ম। 

অভিযোগকারী মাদ্রাসার অভিভাবকগণ জানান, শিক্ষকরা নিয়মিত মাদ্রাসায় উপস্থিত না হয়ে একদিন এসে সারা মাসের স্বাক্ষর করে দেন। এই সুযোগ কাজে লাগানোর জন্য বায়োমেট্রিক হাজিরা স্থাপন করছেন না। এমন হলে তারা শিশুদের নিয়ে যাবেন। তদন্ত চলাকালে অভিযুক্ত সুপার জাহাঙ্গীর আলম অর্থ কেলেঙ্কারি, পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠন  সংক্রান্ত ডকুমেন্টস  বিল ভাউচার ও পর্যাপ্ত প্রয়োজনীয় কাগজপত্র দেখাতে পারেননি। জানতে চাইলে মাদ্রাসার সুপার জাহাঙ্গীর আলম বলেন, বায়োমেট্রিক হাজিরা শিক্ষকদের নিষেধের কারণে স্থাপন করেননি। সুপার জাহাঙ্গীর আলম অধীনস্থদের কথা মতো প্রতিষ্ঠান চালান কিনা এমন প্রশ্ন অভিভাবক মহলে। 


তদন্তকারী কর্মকর্তা বলেন, সরেজমিনে উভয় পক্ষের উপস্থিতিতে তদন্ত সম্পন্ন করেছি। সবার বক্তব্য নিয়েছি এবং কাগজপত্র দেখেছি। দুই তিন কর্মদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন দাখিল করব এলাকাবাসী মাদ্রাসার দুর্বল ব্যবস্থাপনা ও বেহাল দশার বিষয়ে মাদ্রাসার সুপার জাহাঙ্গীর আলমের শাস্তি দাবি করেেছেন।

নিউজটি আপডেট করেছেন : Banglar Alo News Admin

কমেন্ট বক্স

প্রতিবেদকের তথ্য

এ জাতীয় আরো খবর

সর্বশেষ সংবাদ