ঢাকা , মঙ্গলবার, ১১ অগাস্ট ২০২৬ , ২৬ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

জোবায়েদ খুনের আসামী মাহির আগে থেকেই এলাকার বখাটে ছেলে; হত্যাকান্ডে জড়িত ছিলো কাজের মেয়ে : বর্ষার ফুপু প্রিয়া


আপডেট সময় : ২০২৫-১০-২১ ১৮:২৯:০০
জোবায়েদ খুনের আসামী মাহির আগে থেকেই এলাকার বখাটে ছেলে; হত্যাকান্ডে জড়িত ছিলো কাজের মেয়ে : বর্ষার ফুপু প্রিয়া জোবায়েদ খুনের আসামী মাহির আগে থেকেই এলাকার বখাটে ছেলে; হত্যাকান্ডে জড়িত ছিলো কাজের মেয়ে : বর্ষার ফুপু প্রিয়া
 
 
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) শিক্ষার্থী ও শাখা ছাত্রদলের আহ্বায়ক কমিটির সদস্য, জোবায়েদ হোসেনকে হত্যার দায় প্রাথমিকভাবে স্বীকার করেছেন ওই ছাত্রী ও মাহির রহমান। আরও এক মাস আগে এই হত্যাকাণ্ডের পরিকল্পনা করা হয় বলে পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে। 
 
অভিযুক্ত ছাত্রী ও মাহিরকে জিজ্ঞাসাবাদ শেষে এসব তথ্য জানিয়েছে পুলিশ।
 
 
মঙ্গলবার (২১ অক্টোবর) সকালে বংশাল থানার ওসি মো. রফিকুল ইসলাম সাংবাদিকদের জানান, অভিযুক্ত ওই ছাত্রী ও মাহিরকে জিজ্ঞাসাবাদ শেষে হত্যার পরিকল্পনার বিষয়টি নিশ্চিত হয়েছেন তারা।
 
 
কিন্তু ভাইরাল হওয়া বর্ষার ফুপু প্রিয়া বাংলার আলো নিউজকে জানান ভিন্ন তথ্য, এলাকায় মাহির বখাটে ছেলেদের সঙ্গে চলাফেরা করতো। বর্ষার বাসায় আগে ভাড়া থাকতে দেড় বছরের প্রেম হয় তাদের মধ্যে। কিন্তু মিডিয়া ৯ বছর প্রচার করছে। যা হাস্যকর।
 
 
প্রিয়া বলেন, বর্ষা জোবায়েদকে পছন্দ করতেন। সেটি মাহির মানতে পারেনি। মূল কালপিট ছিলো বর্ষার বাসার কাজের মেয়ে। বিভিন্ন মিথ্যা তথ্যা মাহিরকে ফোনে আদান প্রদান করতো৷ বর্ষা বিভিন্ন সময় জোবায়েদকে পছন্দের বিষয়গুলি কাজের মেয়েকে বললে পরে তা সাজিয়ে গুছিয়ে সেই কাজের মেয়ে মাহিরকে জানাতো। সেইখান থেকে মাহির জুবায়েদের উপর ক্ষিপ্ত হয়ে বন্ধুর সহযোগিতায় এ হত্যাকান্ড ঘঠায় আমরা জানতে পারি।
 
 
প্রিয়া এছাড়াও বলেন, বর্ষার মামা থানায় বর্ষার খোঁজ নিতে গেলে পুলিশ তাকে আটক করেন। বাসায় ভাবি অনেক কান্নাকাটি করছিলো। আমিও একজন গণমাধ্যমকর্মী সেই বিষয়ে আমি কারণ জানতে গেছি। সেখান কোন একজন গোপনে আমার ছবি তুলে নিউজ করেন। কিন্তু এটা কেমন যুক্তি মামা-বাবা-মা থানায় আসামী দেখতে গেলে আটক করবে এটা কোন দেশের আইনে লিখা আছে? আপনাদের কাছে প্রশ্ন রেখে গেলাম। আরেকটা কথা বলে দেই পুলিশ মাহিরকে গ্রেফতার করেনি। মাহির বাবা-মা তাকে থানায় সোপর্দ করেছে আজ। 
 
 
কিন্তু পুলিশের এক সংবাদ সম্মেলনে জানা যায়, দীর্ঘ ৯ বছরের প্রেমের সম্পর্কের ইতি টেনে টিউশনির শিক্ষক জোবায়েদ হোসেনকে পছন্দ করেন তার ওই ছাত্রী। এ বিষয়ে প্রাক্তন প্রেমিক মাহির রহমানকে সরাসরি জানান তিনি। সম্প্রতি জোবায়েদের প্রতি আগ্রহ হারিয়ে ফেলেন ওই মেয়ে। এরপরই গত ২৫ সেপ্টেম্বর তিনি ও মাহির একসঙ্গে জোবায়েদকে হত্যার পরিকল্পনা করেন।
 
 
ওসি জানান, পরিকল্পনা অনুযায়ী, গত রোববার সন্ধ্যার আগে টিউশনিতে যাওয়ার সময় আরমানিটোলার নুরবক্স রোডের রৌশান ভিলার নিচে জোবায়েদকে ছুরিকাঘাতে হত্যা করেন মাহির। এ সময় তার সঙ্গে ছিল বন্ধু ফারদিন আহম্মেদ আয়লান। জোবায়েদের অবস্থানসহ সার্বিক বিষয়ে সহযোগিতা করেন ওই ছাত্রী।
 
 
জোবায়েদ হোসেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০১৯-২০ শিক্ষাবর্ষের পরিসংখ্যান বিভাগের শিক্ষার্থী ছিলেন। একইসঙ্গে জবিস্থ কুমিল্লা জেলা ছাত্র কল্যাণের সভাপতি ও শাখা ছাত্রদলের আহ্বায়ক সদস্য ছিলেন তিনি। গত এক বছর ধরে জোবায়েদ হোসাইন পুরান ঢাকার আরমানীটোলায় নুরবক্স লেনে রৌশান ভিলা নামের বাসায় বর্ষা নামের এক ছাত্রীকে ফিজিক্স ক্যামেস্ট্রি ও বায়োলজি পড়াতেন।
 
 
রোববার আনুমানিক বিকেল ৪টার ৪৫ মিনিটের দিকে ছাত্রীর বাসার তিন তলায় তিনি খুন হন।
 
 
কিন্তু সোশ্যাল মিডিয়ায় এটিএন বাংলার এক সাংবাদিকের পোস্টে ইসরাফিল নামের একজন ব্লগার লিখেন, তার এই স্টেটমেন্ট টা সত্য না। পুলিশ জাস্ট ঘটনার মোড় ঘুরাতে নিজেদের উপর চাপ কমাতে ত্রিভুজ প্রেমের কাহিনি বানিয়ে এইরকম একটা স্টেটমেন্ট দাড় করাইছে৷ 
 
 
কারণ, এটা কোন সিনেমা না ভাই৷ আর মেয়ে এবং ছেলে টাও প্রফেশনাল খুনী না৷ 
 
 
ইস্রাফিল আরও লিখেন, বরং তার বয়ফ্রেন্ড মারছে, সে জানে অথবা জানে না। হুট করে মেরে ফেলে চলে গেছে। মেয়ে ও তার প্রেমিকের ঝামেলার বলি হয়েছে জোবায়েদ। খুব সম্ভবত প্রেমিক তার গার্লফ্রেন্ড ও টিচার নিয়ে সন্দেহজনক ছিলো।  তাই গার্লফ্রেন্ডের সাথে তর্ক-বিবাদ এ হেরে জোবায়েদ কে ঘায়েল করছে। এতো পরিকল্পনা করে মারে নাই। পরিকল্পনা করলে, যারে মারছে সেইই বুঝত। এবং পরিকল্পনা করলে নিজ বাড়িতে মারতও না।
 
 
ইস্রাফিল এছাড়াও লিখেন, পুলিশ আসলে কোনদিন মানুষ হবে না। পুলিশ আসলে চাইতেছে জোবায়েদকেও প্রেমিক হিসাবে উপস্থাপন করে মামলা টা কে হালকা করতে। এই মেয়ে এতো টাই হিংস্র না যে, তার সামনে খুন করবে, আর সে চেয়ে চেয়ে দেখবে। এটা কোন মানুষই সহ্য করতে পারে না। যতই খারাপ হোক। খুন তারাই করে যারা নেশাগ্রস্ত।  আমি বলতে পারি বয়ফ্রেন্ড কিছু খেয়ে এসেই খুন করেছে। এখন মেয়ে রাজসাক্ষী। মেয়ে পুরো ঘটনা বলতে পারবে৷  কিন্তু পুলিশ মেয়েকে ফাসিয়ে দিয়ে মামলা টা কে হালকা করবে। মানুষ মেয়েদের প্রতারণা নিয়ে কথা বলবে বেশী আর খুনী টা আস্তে আস্তে আড়াল হবে৷
 
 
রোববার আনুমানিক বিকেল, ৪টার ৪৫ মিনিটের দিকে ছাত্রীর বাসার তিন তলায় তিনি খুন হন। বাসার নিচ তলার সিঁড়ি থেকে তিন তলা পর্যন্ত সিঁড়িতে রক্ত পড়েছিল। তিন তলার সিঁড়িতে উপুড় হয়ে পড়ে থাকতে দেখা যায় তাকে।
 
 
সে রাতেই পুলিশ ওই মেয়েকে হেফাজতে নেয়। পরদিন প্রধান আসামি মাহির রহমান ও তার সহযোগী ফারদিন আহম্মেদ আয়লানকেও গ্রেপ্তার করা হয়।


নিউজটি আপডেট করেছেন : banglaralonews

কমেন্ট বক্স

প্রতিবেদকের তথ্য

এ জাতীয় আরো খবর

সর্বশেষ সংবাদ